টাক মাথার লোকেদের করোনার ঝুকি বেশি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

টাক মাথার লোকেদের করোনার ঝুকি বেশি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

২০১৯ সালের ডিসেম্বর এ চীনের উহান প্রদেশে আবিষ্কৃত হয়েছিল করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ ।পার হয়ে গেছে ছয়টি মাস ।শুরুতে শুধু চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমন দেখা দিলেও সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে পুরো বিশ্বটাকে গ্রাস করে নিয়েছে করোনা ভাইরাসের মহামারী । বিশ্বের ২০০ টি দেশ এখন করোনা ভাইরাসের মহামারীতে বিপর্যস্ত । মাত্র ছয় মাসে  করোনা ভাইরাসের এই মহামারী কেড়ে নিয়েছে সাড়ে তিন লক্ষেরো বেশি নিরিহ মানুষের প্রান ।শুধু তাই নয় বিশ্বের প্রায় ৬৮ লক্ষেরো বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে ।
আশ্চার্যের বিষয় হলো দীর্ঘ ছয় মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো ধরনের কোন টিকা বা কোনো ওষুধ আবিষ্কার করতে পারে নি কোনো দেশই ।আবিষ্কার তো দূরে থাক এখন পরযন্ত ভাইরাস্টির সঠিক জিন আবিষ্কার হয় নি,কারন আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে  ৩০০ বারেরও বেশি বার জিন পরিবর্তন করেছে ভাইরাসটি ।জার ফলে বিজ্ঞানী বা গবেষক রা এই ভাইরস্টির সঠিক জিন নির্ণয় করতে পারছেন না ।তবে আশার কথা হলো প্রায় ১০০ টিরও বেশি দেশ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে কাজ করছেন ।

ভাইরাসটির কোনো ধরনের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করা না গেলেও বিজ্ঞানীরা বা গবেষকরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অনেকগুলো লক্ষন নির্ধারন করেছেন এবং এর ঝুকি সম্পর্কে সাধরন মানুষদের সতর্ক করেছেন ।

এবার ঠিক এমনি একটি লক্ষন বা ঝুকির কথা জানালেন বিষেজ্ঞরা ।তবে ছেলের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ঝুকি হলেও  মেয়েদের জন্য আশার কথা হলো মেয়েরা এই ঝুকি মোটেও নেই ।

বিষেজ্ঞরা জানিয়েছেন  করোনার উপসর্গ দেখা দেয়া মানুষের মধ্যে টাক মাথার লোকেরা অধিক ঝুঁকিতে আছেন । যেহেতু মেয়েদের সব মাথার চুল পড়ে জায় না বা বলতে গেলে মেয়েরা টাক হয় না তাই মেয়ারা এই ঝুকির আওতামুক্ত ।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, যুক্তরাজ্যের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কার্লোস ওয়ামবিয়েরের নেতৃত্বে একটি  গবেষণাটি করা হয় এবং গবেষনা পাওয়া জায় করোনার উপসর্গ দেখা দেয়া মানুষের মধ্যে টাক মাথার লোকেরা অধিক ঝুঁকিতে আছেন 

গবেষকরা জানান, টাক মাথার সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক বেশ তীব্র। বেশ কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে করোনায় সংক্রমণের জন্য টাক মাথা বড় একটি লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকেরা প্রমাণ পেয়েছেন।
টাক মাথার লোকেদের করোনার ঝুকি বেশি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

মার্কিন চিকিৎসক ফ্রাংক গ্যাব্রিনের মৃত্যুর পর এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। ওই চিকিৎসকের মাথায় টাক ছিল। টাক মাথায় করোনার ঝুঁকির বিষয়টিকে 'গ্যাব্রিন সাইন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।গবেষক দলের প্রধান ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কার্লোস ওয়ামবিয়ের টেলিগ্রাফকে বলেন, মাথায় টাক পড়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য ঝুঁকির তীব্রতা সম্পর্কে ভবিষ্যত বানী  দিচ্ছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই সচেতন করছে।

চীনের উহানের ঘটনার পর গবেষকেরা দেখেছেন, সেখানে নারীদের তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার বেশি। এ নিয়ে বেশ গবেষণা হয়েছে যে কেন নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি মারা যাচ্ছেন।
গবেষকেরা বলছেন, পুরুষের শরীরের বেশ কিছু হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরোনের মতো হরমোন কেবল চুল পড়ার জন্যই দায়ী নয়। এটি করোনার সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। সে কারণেই যাদের টাক পড়ছে তাদের শরীরে খুব সহজেই বাসা বাঁধতে পারে করোনাভাইরাস। এই হরমোনের মাত্রা কমিয়ে আনতে যদি প্রথম থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করা হয় তবে, কোভিড-১৯-এর প্রবণতাও কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্প্রতি স্পেনে এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশের মাথায় টাক ছিল। মাদ্রিদের তিনটি হাসপাতালের ৭৯ শতাংশ কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিই টাক মাথার। তবে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী বলছেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। এখনই সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, কর্মক্ষম পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ। তাদের অনেকেরই মাথায় টাক ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নারীদের তুলনায় পুরুষের আক্রান্তের হার বেশি।


সূত্র ঃ সময় নিউজ

Post a Comment

0 Comments