সামরিক শক্তিতে কে কতটা এগিয়ে ?????



বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দুটি দেশ হলো চীন এবিং ভারত।প্রতিবেশি এই দুই দেশ যেন একে অপরের পরি পুরূক ।সার্বিক বিশ্লেষনা করলে এক নজরে  দেখা যাবে দুই দেশই একে অন্যের পরপুরূক।
চীন এবং ভারত প্রতিবেশি দেশ হওয়ার কারনে সীমান্ত নিয়ে প্রায়ই দু দেশের মাঝে বিভিন্ন বিরোধ দেখা দিয়ে থাকে। এক কথায় বলতে গেলে বলা জায়,সীমান্ত নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী এই দুই দেশ কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার পাত্র না।জার ফলে প্রতিবেশি দেশ হওয়া সত্বেও এই দুই দেশের মাঝে প্রায় সারা বছরই বিরোধ লেগে থাকে এবং কখনো কখনো সেই বিরোধ চরম পর্যায়ে উঠে জায় ।

আর এবারো সেই সীমান্ত সমস্যা  নিয়ে দুই দেশের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম বিরোধ। লাদাখ অঞ্চলটিতে ভারত এবং চীন দুই দেশেরই সীমান্ত রয়েছে।এবার  এই লাদাখ  সীমান্তন নিয়ে  ভারত এবং চীনের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই দেশই লাদাখ সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
 দুই  দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। সীমান্তে সেনা বাড়ানোর সঙ্গে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে চীন। 

অন্যদিকে ভারতও পিছিয়ে নেই চীনের সাথে পাল্লা দিয়ে  লাদাখ সীমান্তে  উল্লেখযোগ্যহারে সেনাসংখ্যা বাড়িয়েছে ভারতও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, কাশ্মীর থেকে ভারতীয় হাজার হাজার সেনা লাদাখ সীমান্ত নেয়া হচ্ছে।

চীন এবং ভারত দুটি  দেশই বিশ্বের সক্তিধর দেশগুলোর মাঝে অন্যতম দুটি দেশ।দুটি দেশই পরমানু শক্তিধর দুটি দেশ। 
পরমানু শক্তিধর এই  দুই দেশ যদি কোনো ধরণের যুদ্ধ  সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে তা হলে  সারা বিশ্বের জন্য ডেকে আনতে পারে ব্যাপক  ভয়াবহতা ।আর তাই চীন এবং ভারত কোনো ধরনের কোনো যুদ্ধ সংঘাতে জরিয়ে পড়ুক তা কেউ চাইবে না । 

উপর থেকে দেখলে দুটি দেশ একে অপরের পরিপুরুক হলেও কাগুজে কলমে কিন্তু একদম তা না। এবার চলুন দেখে নেওয়া জাক দুই দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে কোন দেশ এগিয়ে আছে।

সামরিক শক্তির পিডাব্লিউআর ব়্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে চীন। চীন আছে তিন নম্বরে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্টের পরেই চীনের অবস্থান।অন্যদিকে পিডাব্লিউআর ব়্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থা চার নম্বরে।

প্রতিরক্ষা বাজেট:
প্রতিরক্ষা খাতে চীনের বাজেট আছে ২৩৭০ কোটি ডলারের এবং ভারতের বাজেট ৬১০ কোটি ডলারের।

সক্রিয় সেনাসদস্য:
 পিআরডাব্লিউ ইনডেক্সে তৃতীয়  অবস্থানে আছে  চীনে। চীনের মোট 
সক্রিয় সেনাসদস্যআছে  ২১ লাখ ২৩ হাজার , অন্যদিকে ভারতের কাছে আছে   ১৪ লাখ ৪৪ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্য। সক্রিয় সেনাসদস্য দিক থেকে চীন এগিয়ে থাকলেও
রিজার্ভ সৈন্যের সংখ্যায় এগিয়ে আছে ভারত। 
চীনের কাছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার রিজার্ভ সেনা আছে  বিপরীতে ভারতে আছে  ২১ লাখ রির্জাভ সেনা ।

এয়ারক্রাফট:
সক্রিয় সেনা সদস্যের মতো এয়ারক্রাফট এর দিক দিয়েও এগিয়ে আছে চীন। চীনের রয়েছে ৩২১০টি এয়ারক্রাফট, অন্যদিকে ভারতের রয়েছে ২১২৩টি এয়ারক্রাফট।

যুদ্ধজাহাজ ঃ
এখানেও  এগিয়ে রয়েছে চীন। দেশটির ৭৭৭টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। আর ভারতের রয়েছে  মাত্র ২৮৫টি যুদ্ধজাহাজ।

যুদ্ধবিমান:
যুদ্ধবিমান এর দিক দিয়ে চীন ভারতের চেয়ে দ্বিগুন এগিয়ে রয়েছে।যেখানে  চীনের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১২৩২ টি সেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের  যুদ্ধবিমান রয়েছে মাত্র ৫৩৮টি।

হেলিকপ্টার:
এদিক দিয়েও এগিয়ে আছে চীন। চীনের আছে ৯১১টি হেলিকপ্টার আর ভারতের আছে ৭২২টি হেলিকপ্টার ।

ট্যাঙ্ক:
এতখন চীন এগিয়ে থাকলেও  ট্যাঙ্কের সংখ্যায়  চীনের থেকে অনেক এগিয়ে আছে ভারত।যেখানে  চীনের আছে ৩৫০০টি ট্যাঙ্ক সেখানে ভারতের আছে  ৪২৯২টি ট্যাঙ্ক

রকেট প্রজেক্টর:
অন্য সবগুলোর  ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে  চীন সামান্য এগিয়ে থাকলেও এক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে চীন প্রায় দশগুণ এগিয়ে। চীনের রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ২৬৫০ টি  অন্যদিকে  ভারতের রকেট প্রজেক্টর আছে মাত্র ২৬৬ টি

সাবমেরিন:
সাবমেরিনের সংখ্যার দিক থেকেও ভারত অনেক পিছিয়ে। চীনের ৭৪টি সাবমেরিন এর  বিপরীতে ভারতের আছে মাত্র ১৬টি সাবমেরিন।

বিমানবাহী জাহাজ:
চীনের ২টি, ভারতের ১টি।

ফ্রিগেট:
এক্ষত্রে চারগুন পিছনে আছে ভারত। চীনের আছে  ৫২ টি ফ্রিগেট অন্যদিকে  ভারতের আছে  চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১৩টি ফ্রিগেট ।

রণতরি:
রণতরি এর দিক দিয়ে ভারত দ্বিগুন পিছিয়ে আছে।   চীনের রণতরি সংখ্যা ৫০টি,অন্যদিকে  ভারতের রণতরি ১৯টি
 
বিমানবন্দর:
চীনের আছে মোট ৫০৭টি বিমানবন্দর অন্যদিকে  ভারতের আছে  ৩৪৭টি বিমানবন্দর ।

নৌবন্দর এবং টার্মিনাল:
চীনের ২২টির বিপরীতে ভারতের রয়েছে মোট ১৩টি বন্দর ও টার্মিনাল।

তাহলে দেখা জাচ্ছে সার্বিক দিক দিয়ে খালি চোখে ভারত এবং চীন একে অপরের পরিপুরুক দেখা গেলেও আসলে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে চীন ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে ।

সুত্র ঃ গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ডটকম

Post a Comment

0 Comments